বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের সাথে সভা
১২ আগস্ট, ২০২৫ তারিখ মঙ্গলবার বিকাল ৩:০০ টায় বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের (বিএসি) সাথে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি) এর এক ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোগ্রাম লেভেল অ্যাক্রেডিটেশনের আবেদন করার প্রস্তুতি পর্যালোচনার অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত এ সভায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মো: রেজাউল করিম, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো: নূর উন নবী, সংশ্লিষ্ট স্কুলের ডিন, আইকিউএসির পরিচালক, অতিরিক্ত পরিচালকবৃন্দ, প্রথম পর্যায়ের Intent to Apply দাখিলকৃত ডিসিপ্লিন প্রধান ও এসব ডিসিপ্লিনসমূহের PSAC এর সদস্যবৃন্দ সভায় অংশগ্রহণ করেন। সভার শুরুতে বিএসির পক্ষ হতে পরিচালক প্রফেসর নাসির উদ্দীন আহাম্মেদ সবাইকে স্বাগত জানিয়ে সভার কার্যক্রম শুরু করেন। অত:পর সভার সভাপতি বিএসির পূর্ণকালীন সদস্য প্রফেসর ড. এস এম কবীর সূচনা বক্তব্য রাখেন। ড. কবীর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে তার দীর্ঘ সম্পর্ক ও বিবিধ অ্যাকাডেমিক কাজে এখানে আসা-যাওয়া সম্পর্কিত অতিত অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণ ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক উৎকর্ষের প্রশংসা করে বলেন, অনেক কাজেই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের মধ্যে অগ্রগণ্য ও পথিকৃত। খুবির শিক্ষকবৃন্দ ধীমান ও তারা পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানো ও নতুনকে গ্রহণ করার বিষয়ে বরাবর ইতিবাচক। তিনি বাংলাদেশের সরকারী ও বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের অ্যাক্রেডিটেশন চালচিত্র তুলে ধরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়ে ব্যক্তিগত আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন বাংলাদেশের ৩৩ টি প্রাইভেট ও ১১ পাবলিক ও ১ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অ্যাক্রেডিটেশনের জন্য ইতোমধ্যে আবেদন করেছে। এর মধ্যে ১১ টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতোমধ্যে বিএসি অডিট ভিজিট সম্পন্ন করেছে। ২টি বিশ্ববিদ্যালয় অতি সম্প্রতি আবেদন করেছে। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ, কর্মাশালা ও এ ধরণনর সভা আয়োজনের মাধ্যমে বিএসি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়কে ডকুমেন্টেশনের কাজে সাহায্য করছে। তারা যাতে ভাল করতে পারে সে বিষয়ে আইন ও বিধির মধ্যে থেকে বিএসি নিরবচ্ছিন্নভাবে পরামর্শ প্রদান করে যাচ্ছে। আইকিউএসির পরিচালক প্রফেসর ড. মো: মোস্তাফিজুর রহমান-কে Intent to Apply আবেদনকৃত ডিসিপ্লিনসমূহ ও অ্যাক্রেডিটেশন বিষয়ে সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে সূচনা বক্তব্য প্রদানের অনুরোধ জানানো হলে তিনি সংক্ষেপে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক প্রস্তুতি বিষয়ে ধারণা প্রদান করেন। বক্তব্যের শেষভাগে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসির তত্ত্বাবধানে আইসিটি সেল কর্তৃক Accreditation Tracker সফটওয়্যার তৈরির কথা উল্লেখ করেন। আইকিউএসি ডিসিপ্লিনসমূহকে -ষ্ট্যাণ্ডার্ড ওয়াইজ কীভাবে সাহায্য করছে সে বিষয়ে একটি ধারণা দিয়ে বলেন, এখন থেকে কমন ডকুমেন্টস সংকলনের বিষয়ে আইকিউএসি এই সফটওয়্যারটি ব্যবহার করবে। এতে সর্বশেষ অবস্থা জানার পাশাপাশি সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে করণীয় নির্ধারণ করতে পারবে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষায় কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স প্রক্রিয়ার সাথে তার দীর্ঘ সংশ্লিষ্টতা ও বিএসির পূর্ণকালীন সদস্য প্রফেসর ড. এস এম কবীরের সাথে ব্যক্তিগত সখ্যতার ইতিহাস স্মরণপূর্বক জানান যে, বাংলাদেশের বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলি এ কাজে এগিয়ে থাকলেও এখন সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়সমূহও অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে এ বিষয়ে তাদের কর্মকান্ড বিস্তৃত করে চলেছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় তার ব্যতিক্রম নয়। বিএসির স্টান্ডার্ড ও ক্রাইটেরিয়া প্রতিপালনের বিষয়ে আমাদের এখানে ধারাবাহিক কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে Intent to Apply দাখিলকৃত দশটি ডিসিপ্লিনে বিএসির দশটি স্টান্ডার্ডের জন্য দশজন শিক্ষককে ডিসিপ্লিনের তথ্য সংকলনের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আইকিউএসিও তাদেরকে পরিপূর্ণভাবে প্রস্তুত করে তোলার জন্য তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। তিনি বলেন, আজকের এই সভা তাদের সেই প্রচেষ্টাকে গতিশীল ও শক্তিশালী করবে। অত:পর, উপাচার্য মহোদয় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম পর্যায়ের দশটি ডিসিপ্লিন হতে অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষককে তাদের বাস্তব সমস্যাসমূহ উত্থাপন, আলোচনা এবং মূল্যবান পরামর্শ গ্রহণ করার আহবান জানান। তিনি উপস্থিত শিক্ষকবৃন্দকে প্রশ্ন করার ও সেগুলি নিয়ে আলোচনা করার আহবান জানান। তিন বলেন, এভাবে পারস্পরিক ধারণা বিনিময়ের মাধ্যমে অ্যাক্রেডিটেশন সংক্রান্ত সার্বিক কর্মকান্ড সফলতা লাভ করবে। পরিশেষে তিনি সকলকে স্বাগত জানিয়ে তার শুভেচ্ছা বক্তব্য শেষ করেন। বিএসির পক্ষ হতে স্বাগত বক্তব্য, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসির পক্ষ হতে সূচনা বক্তব্য ও মাননীয় উপাচার্যের শুভেচ্ছা বক্তব্য শেষ হলে শুরু হয় প্রশ্নত্তর পর্ব। সভায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ হতে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের PSAC সদস্যবৃন্দ কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করেন, যার উত্তর দেন বিএসির পূর্ণকালীন সদস্য প্রফেসর ড. এস এম কবীর।